গ্রিড পদ্ধতিতে ছবি আঁকুন

ছবিতে গ্রিড বসান আর এক ঘর করে কাগজে এঁকে ফেলুন: শিল্পীদের গ্রিড পদ্ধতি, ফ্রি।

অথবা যেকোনো জায়গায় ছবি ছেড়ে দিন, কিংবা Ctrl+V চাপুনঅথবা , কিংবা

গ্রিড পদ্ধতিতে ছবি আঁকা মানে কী?

গ্রিড পদ্ধতি হলো নিখুঁতভাবে ছবি আঁকার সবচেয়ে পুরনো উপায়গুলোর একটি: রেফারেন্স ছবির ওপর একটা গ্রিড বসান, কাগজেও হালকা করে ঠিক একই গ্রিড আঁকুন, তারপর এক ঘর করে ছবিটা তুলে নিন। প্রতিটি ঘরে ছবির খুব ছোট একটা অংশ থাকে, তাই কোণ, মাপ আর অবস্থান বোঝা সহজ হয়ে যায়। মাপজোকের কাজটা গ্রিডই করে দেয়। রেনেসাঁর সময় থেকে শিল্পীরা রেফারেন্স ছবি বড় করে আঁকতে আর অনুপাত ঠিক রাখতে এটি ব্যবহার করে আসছেন, আর পোর্ট্রেট, পশুপাখি ও প্রকৃতির ছবি আঁকায় নির্ভুলতা বাড়ানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায়গুলোর একটি এখনো এটাই।

ছবিতে গ্রিড বসাবেন যেভাবে

  1. ছবি বেছে নিন। ছবি আপনার ডিভাইস ছেড়ে কোথাও যায় না। গ্রিড আঁকা হয় আপনার ব্রাউজারেই, কিছুই আপলোড হয় না।
  2. ক্রপ করে যেটুকু আঁকবেন শুধু সেটুকু রাখুন, যাতে প্রতিটি ঘর কাজে লাগে।
  3. সারি ও কলাম ঠিক করুন। ঘরগুলো পুরোপুরি বর্গাকার রাখতে বর্গাকার চালু করুন, কাগজে তোলার জন্য এই আকৃতিই সবচেয়ে সহজ।
  4. লাইন ঠিক করুন। পুরুত্ব, রং আর গাঢ়ত্ব বদলে নিন, যাতে ছবির হালকা আর গাঢ় দুই জায়গাতেই গ্রিড দেখা যায়।
  5. লেবেল চালু করুন। সারিতে অক্ষর আর কলামে সংখ্যা বসে, ফলে আপনি কোন ঘরে আছেন তা সবসময় বোঝা যায়।
  6. ডাউনলোড বা প্রিন্ট করুন। PNG বা JPG হিসেবে সেভ করুন, কিংবা A4 বা Letter কাগজের মাপে, লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি, প্রিন্টের জন্য তৈরি PDF নিন।

এবার কাগজে ঠিক ততগুলোই ঘর এঁকে নিন এবং এক ঘর করে ছবিটা তুলুন।

গ্রিডের সাইজ কত হবে

  • কম সংখ্যক বড় ঘর (মোটামুটি 4×4) দ্রুত স্কেচ আর সহজ বিষয়ের জন্য।
  • 8×8 এর কাছাকাছি বেশিরভাগ পোর্ট্রেট আর পোষা প্রাণীর ছবির জন্য ভালো ভারসাম্য: যথেষ্ট সাহায্য পাবেন, আবার কাজও ধীর হবে না।
  • 12×12 বা তার বেশি খুঁটিনাটি বেশি হলে, জটিল দৃশ্যে, বা বড় কাগজে আঁকার সময়।
  • ছবি বড় বা ছোট করে আঁকতে ঘরের সংখ্যা একই রাখুন, শুধু কাগজে ঘরের মাপ বদলান। 8×8 গ্রিডে বসানো একটি ছবি 3 সেমি ঘরে তুললে 2 সেমি ঘরের চেয়ে বড় হয়, অথচ অনুপাত হুবহু এক থাকে।
  • বারবার জায়গা হারিয়ে ফেললে ঘরের সংখ্যা বাড়ান। গ্রিড খাঁচার মতো লাগলে কমিয়ে দিন।

গ্রিড দিয়ে ছবি আঁকার নিয়ম ও টিপস

  • এক ঘর ধরে কাজ করুন আর খেয়াল করুন লাইনগুলো ঘরের কোন কোন প্রান্তে গিয়ে মিশছে। ওই ক্রসিং পয়েন্টগুলোই আপনার ভরসা।
  • রঙের ঝামেলা ছাড়া আলো-ছায়া বুঝতে সাদাকালো ব্যবহার করুন, আর ছবিটাকে শুধু আউটলাইনে নামিয়ে আনতে স্কেচ।
  • ছবিটা হালকা করে দিতে ফিকে ব্যবহার করুন, তাতে খুঁটিনাটির বদলে গ্রিড আর আকৃতির দিকেই চোখ থাকে।
  • কাগজের গ্রিডটা পেন্সিলে হালকা আর সরু করে আঁকুন, যাতে আঁকা শেষে পরিষ্কারভাবে মুছে ফেলা যায়।
  • কেন্দ্র আর কোনাকুনি গাইডলাইন ছবির মাঝবরাবর জায়গাটা সঙ্গে সঙ্গে দেখিয়ে দেয়, প্রথম দাগগুলো বসাতে কাজে লাগে।

গ্রিড ড্রয়িং নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

গ্রিড দিয়ে ছবি আঁকা কি চিটিং?

না। গ্রিড একটা মাপার যন্ত্র, ঠিক যেমন পেন্সিল সামনে ধরে কোণ মেপে নেওয়া। প্রতিটি লাইন আপনিই আঁকছেন, আর বারবার ছবির সঙ্গে কাগজ মিলিয়ে দেখার অভ্যাসে সেই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই তৈরি হয় যা ফ্রিহ্যান্ড আঁকার সময় কাজে লাগে। বেশিরভাগ আঁকার শিক্ষক এই কারণেই গ্রিড পদ্ধতি শেখান।

কয়টা ঘরের গ্রিড নেব?

8×8 দিয়ে শুরু করুন, এটাই ডিফল্ট। খুঁটিনাটি বেশি হলে বা কাগজ বড় হলে ঘর বাড়ান, দ্রুত স্টাডির জন্য কমান। ঘর বেশি মানে বেশি সাহায্য, তবে কাগজে গ্রিড আঁকার খাটুনিও বেশি।

আমার ছবি কি আপলোড হয়?

না। গ্রিড, ফিল্টার আর ডাউনলোড, সবই হয় আপনার ব্রাউজারে। ছবি আপনার ডিভাইস ছেড়ে কোথাও যায় না, আর এ কারণেই একবার পেজটা খোলা হয়ে গেলে ইন্টারনেট ছাড়াও টুলটি কাজ করে।

গ্রিড বসানো ছবি সঠিক মাপে প্রিন্ট করব কীভাবে?

PDF হিসেবে ডাউনলোড করুন, তারপর A4 বা Letter, আর লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি বেছে নিন। ছবিটি সঠিক মাপের পাতায় 10 মিমি মার্জিন রেখে মাঝখানে বসে, ফলে ঘরগুলো এমন মাপে প্রিন্ট হয় যা আপনি স্কেল দিয়ে মেপে কাগজে হুবহু বসাতে পারবেন।

কাগজে গ্রিডটা আঁকব কীভাবে?

সারি আর কলাম গুনে নিন, তারপর কাগজে যে মাপে সুবিধা সেই মাপে ঠিক ততগুলো ঘর কেটে নিন। প্রান্তের লেবেলগুলো (A, B, C আর 1, 2, 3) হালকা করে লিখে রাখুন, তাহলে যেকোনো ঘর সঙ্গে সঙ্গে খুঁজে পাবেন। এরপর যা দেখছেন তা এক ঘর করে এঁকে ফেলুন।